পুষ্টিগুণের কারিশমায় অনন্য আলু
প্রতিকী ছবি
‘গোল আলু’। বহুল প্রচলিত একটি বিদ্রুপাত্মক শব্দ বটে। বাংলা ব্যাকরণে ‘গোল আলু’ শব্দটি বাগধারা। যার অর্থ- যা সব জায়গায় ব্যবহার করা যায়। কিন্তু খাদ্য হিসেবে গোল আলু কি সব কিছুতেই ব্যবহার করা যায় ? এমন প্রশ্নের উত্তর-হ্যা, অবশ্যই যায়। আপনি চাইলেই যে কোনো রান্নায় গোল আলু ব্যবহার করতে পারেন। ভাজি, তরকারি, ঝোঁল, ভুনা কিংবা পিঠা পায়েস, সবখানেই আলুর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
সারা পৃথিবীতে সবজি হিসেবে এককভাবে আলু সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। বিশ্বব্যাপী আলুর চিপস কার না পছন্দ? এত পছন্দের একটি খাদ্য উপাদানে কী কী পুষ্টি উপাদান রয়েছে, তা আমরা অনেকেই জানি না। চলুন এক নজরে দেখে নিই, কী আছে আলুতে-
পুষ্টি উপাদান
আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে নানা পুষ্টি উপাদান। রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিংক ও ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান ফোলেট।
প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে রয়েছে
কার্বোহাইড্রেট ১৯ গ্রাম
খাদ্য আঁশ ২.২ গ্রাম
উদ্ভিজ প্রোটিন ২ গ্রাম
খনিজ লবণ ০.৫২ গ্রাম
পটাসিয়াম ০.৪২ গ্রাম এবং
ভিটামিন ০.০২ গ্রাম।
আলু কত প্রকার
সারা বিশ্বে ২০০ জাতের আলু পাওয়া যায়। কিন্তু সব আলু জনপ্রিয় নয়, আবার সব আলু খুব বেশি পাওয়ায় যায় না। তবে বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় কয়েকটি আলুর মধ্যে রয়েছে-
রাসেল আলু (সাদা ও বাদামী রঙের সাধারণ আলু)
রাঙা আল (এটি রান্না ও ভাজি হিসেবে খুব জনপ্রিয়)
সাদা আলু (সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এটি)
হলুদ আল (সালাদ হিসেবে ব্যবহার হয়)
বেগুনি আলু (সালাদ হিসেবে জনপ্রিয়)
ফিঙ্গারলিং আলু এবং
ক্ষুদ্র আলু (আকারে ছোট ও লাল রঙের)।
আলুর উপকারিতা
বাঙালির রান্না ঘরে আলু না থাকলে যেন চলেই না। মাছ, মাংস, ডিম, তরকারি; যেটাই রান্না হোক, সবকিছুতেই আলুর ব্যবহার যেন ‘বাঙালি স্টাইল’। আলুর উপকারিতা চলুন জেনে নিই-
শক্তির আঁধার : আলুতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, যা ভাতের বিকল্প হিসেবে খুবই কার্যকরি। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেলও কার্বোহাইড্রেট শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : রক্তচাপ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে সোডিয়াম। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন, আলুতে সোডিয়াম নেই। কাজেই আলু খেলে সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় : এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও ভিটামিন বি। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। হার্টের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আলু খুবই কার্যকরি।
ক্যান্সার নিরাময় : আলুতে রয়েছে ফোলেট, যা ডিএনএ তৈরি ও সংস্কারে সহায়তা করে। ফলে শরীরে থাকা ক্যান্সারের কোষগুলো ধ্বংস হয়। তাই আলু খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা : আলুতে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক। এসব উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত আলু খাওয়ার অভ্যাস আপনার হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করে : হজমের জন্য প্রয়োজন আঁশযুক্ত খাবার। আলুতে পরিমিত আঁশ থাকায়, তা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
কিডনীর পাথর দূর করে : যাদের কিডনীতে পাথর জমেছে, তারা আলু খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ আলুতে থাকা খনিজ ও ভিটামিন পাচনযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়িয়ে কিডনীর পাথর দূর করতে সহায়তা করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : আলুতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
কোলেস্টেরল কমায় : আলুতে থাকা ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, মিনারেল ও পটাশিয়াম শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ত্বকের সুরক্ষা : ত্বক টানটান ও ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখার জন্য কাঁচা আলু মুখে লাগানোর প্রচলন রয়েছে। এটি ত্বকের জন্য দারুণ একটি পদ্ধতি। ত্বকের খসখসে ভাগ দূর করতেও আলু খুবই কার্যকরি একটি খাদ্য উপাদান।
চুল পড়া কমায় : আলুতে রয়েছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, জিংক, নিয়াসিন ও আয়রন। এসব উপাদান চুল পড়া কমায় ও চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে। একই সাথে নতুন চুল গজাতেও সহায়তা করে।
পরামর্শ
আলু খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। তবে যারা হরমন পরিবর্তন ও স্থুলতায় ভুগছেন, তারা আলু খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তথ্যসূত্র: লাইভসায়েন্স ডটকম, পটাটোগুডনেস ডটকম (ইউএসএ) ও উইকিপিডিয়া।
এবি/এসএন