• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরিষার তেলের ভালো-মন্দ

সরিষার তেলের ভালো-মন্দ

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

দুই দশক আগেও বাঙালী পরিবারে রান্নার কাজে তেল হিসেবে সরিষার তেলের ব্যাপক প্রচলন ছিল। কিন্তু নানা ভোজ্য তেল বাজারে আসায় সরিষার তেল এখন আর তেমন ব্যবহার হয় না।

ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের ভোজ্য তেল ব্যবহারের কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থুলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ শরীরে কোলেস্টরেল বেড়ে যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, নিম্নমানের ভোজ্য তেল খাওয়ার কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু মানুষ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ভর্তা জাতীয় খাবারে সরিষার তেলের ব্যবহার এখনও টিকে আছে। তবে অনেকেই রান্নায় এই তেল ব্যবহার করেন। অথচ সরিষার তেল গুণেমানে অনন্য। ভোজ্য তেল হিসেবে সরিষার তেল ব্যবহার করা গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

সরিষার তেলের গুণাগুণ?

এই তেলে রয়েছে ১৯২৭ ক্যালরি। এক কাপ তেলে ২১৮ গ্রাম চর্বি রয়েছে। এতে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন-ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ওমেগা, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন-এ। রান্নার কাজে ছাড়াও সরিষার তেল সাধারণ অনেক রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।

এতে রয়েছে এমন কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান, যা আমাদের ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং প্রদাহবিরোধী উপাদান। যা শরীরের ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। এছাড়া সরিষার তেলে থাকা মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী।

প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষার তেলে রয়েছে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ১২ গ্রাম, পলি আনস্যাচুরেটেড ২১ গ্রাম ও মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৫৯ গ্রাম।

যেভাবে সরিষার তেল তৈরি হয় : মূলত দুটি উপায়ে সরিষা থেকে তেল উৎপন্ন করা হয়। যা কাচ্চি ঘানি ও এসেনসিয়াল অয়েল পদ্ধতি নামে পরিচিত।

কাচ্চি ঘানি : এই প্রক্রিয়ায় সরিষার দানা সরাসরি পিষে তেল বের করা হয়। এই তেল খুব ঘন ও ঝাঁঝযুক্ত হয়। এটি অত্যন্ত উপকারী। হজম শক্তি বৃদ্ধি, হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক রাখা, চুল গজানো এবং মাংসপেশী শক্তিশালী করতে কাচ্চি ঘানিতে ভাঙানো সরিষার তেলের জুড়ি মেলা ভার।

এসেনশিয়াল অয়েল : এটি মূলত আধুনিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পেষা সরিষার দানার সাথে পানি, ভিনেগার অথবা অন্য কোনো তরল মিশিয়ে তেল বানানো হয়। এই তেল বেশ পাতলা। সরিষার দানায় মাইরোসিনেইস ও সিনিগ্রিন নামে দুটি উপাদান আছে, যা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বিষাক্ত কম্পাউন্ড সৃষ্টি করে। তাই এ ধরণের সরিষার তেল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সরিষার তেলে যে উপকারিতা

মুখের কালো দাগ দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে। ঘর্মগ্রন্থি উদ্দীপিত করে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। সরিষার তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও ছত্রাক প্রতিরোধক উপাদান থাকায় তা ঘাঁমাচি এবং চর্মরোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এছাড়া দীর্ঘ কালো চুলের জন্য সরিষার তেল খুব উপকারী। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, কারণ এতে রয়েছে গ্লকোসিনোলেট।

সরিষার তেল হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং মেটাবলিক রেট বৃদ্ধি করে। নিয়মিত সরিষার তেল খেলে স্মরণশক্তি বৃদ্ধি হয়। দাঁত সুস্থ রাখতে এবং জিঞ্জাভাইটিস ও পেরিওডন্টাইটিস রোগ প্রতিরোধে সরিষার তেল সহায়ক।

সরিষার তেল ব্যবহারে সতর্কতা

এই তেলে রয়েছে প্রচুর ইউরিক অ্যাসিড। যা লাং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ত্বকে সরাসরি নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহার করলে চামড়ার ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া অন্তঃস্বত্তা নারীদের জন্যও সরিষার তেল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পরামর্শ : যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের অনেক দেশেই রান্নায় সরিষার তেল ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে সরিষা তেলের বাহ্যিক ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এছাড়া ভারতীয় উপমহাদেশে সরিষার তেল রান্নায় ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। তবে আপনি যদি হৃদরোগ, চর্মরোগ কিংবা ইউরিক অ্যাসিডে ভুগে থাকেন, তাহলে সরিষার তেল খাওয়ার ব্যাপারে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

এবি/এসএন

২৪ জুলাই ২০২১, ১২:১৮পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।