• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

শীত কমায় হজমশক্তি বাড়ায় ‘পেঁয়াজ কলি’

শীত কমায় হজমশক্তি বাড়ায় ‘পেঁয়াজ কলি’

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

ভোজনরসিক বাঙালির দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পেঁয়াজ এক অনন্য অনুসঙ্গ। ‘পেঁয়াজ খাওয়া বাঙালি’ প্রবাদ তারই ইঙ্গিত বহন করে। আমাদের দেশে অধিকাংশ রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার সুপ্রাচীন। তবে পেঁয়াজের পাতা বা পেঁয়াজ কলি সবজি হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। শীতকালে দেশের সবধরণের হাটে-বাজারে পেঁয়াজের কলি পাওয়া যায়। এটি সালাদ হিসেবেও খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।

প্রিয় পাঠক, চলুন দেখে নেয়া যাক কি আছে পেঁয়াজ কলিতে-

পরিচয়:
পেঁয়াজের ইংরেজি নাম Onion। তবে পেঁয়াজ কলির নাম Onion leaf বা পেঁয়াজের পাতা। এটি অ্যালিয়াম গোত্রের এক জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত পেঁয়াজ বলতে অ্যালিয়াম কেপা কে বোঝায়। এটি একটি সর্বজন পরিচিত কন্দমূল। সূর্যের কিরণ বিশেষভাবে গ্রহণ করতে পারে বলেই পেঁয়াজের পাতা গাঢ় সবুজ হয়। ভেষজগুণে ভরপুর পেঁয়াজ। বাংলাদেশের এটি কাঁচা, ভাজি ও রান্নার কাজে সমান ভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। পেঁয়াজের সবুজ পাতাকে ‘পেঁয়াজ কলি’ বলা হয়।

পুষ্টিগুণ:
জনপ্রিয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ লাইন ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার নিবন্ধে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ ও পেঁয়াজ কলি বা পেঁয়াজের পাতায় প্রায় একই জাতীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রোটিন, শর্করা, খাদ্যআঁশ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ফসফরাসসহ নানা উপাদানে ভরপুর পেঁয়াজ কলি বা পেঁয়াজ পাতা।

প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ কলিতে রয়েছে-

জলীয় অংশ- ৩১ শতাংশ,
প্রোটিন- ২.২ শতাংশ,
শর্করা- ১০.৬ শতাংশ,
ক্যালসিয়াম- ৭.১৮ শতাংশ,
ফসফরাস- ০.০৪ শতাংশ,
জিংক- ১২.১ শতাংশ।
আয়রণ- ০.৭ শতাংশ।

কৃষি গবেষক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, পেঁয়াজের কলিতে আছে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), বি-২ (রিবোফ্লাবিন), বি-৩ (নিয়াসিন), বি-৫ (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড), বি-৬, বি-৯ (ফোলেট) ও ভিটামিন সি।

উপকারিতা:
হলথ লাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ কলি-

সংক্রমণ দূরে রাখে: সাধারণ সর্দিজ্বর, শরীর গরম হওয়া, কপাল ভার, নাক বন্ধ ও জ্বর জ্বর ভাব দূর করতে পেঁয়াজ কলি বা পেঁয়াজ পাতা বেশ কার্যকরী। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করে: যারা কার্ডিভাসকুলার ফাংশন জটিলতায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত পেঁয়াজ কলি বা পেঁয়াজ পাতা খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। এটি সালাদ হিসেবে খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে: দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে ও চোখের যত্নে পেঁয়াজ কলির জুড়ি মেলা ভার।

অ্যাজমা দূর করে: যারা অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত কয়েকদিন পেঁয়াজ কলি খেতে পারেন। এ ছাড়া এটি রস করেও খেতে পারেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: পেঁয়াজ কলিতে থাকা আঁশ হজমশক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়। পেঁয়াজ কলি হজমশক্তি বাড়িয়ে পাকস্থলি ভালো রাখে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পেঁয়াজ কলি অনন্য। এটি দেহে ইনসুলিনের ঘাটতি পূরণ করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: চিকিৎসা গবেষকরা বলছেন, কোলন ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে বাঁচতে পেঁয়াজ কলি খুবই কার্যকরী। এতে থাকা উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

হাড় ও দাঁত মজবুত করে: গবেষকরা বলছেন, পেঁয়াজের পাতা বা কলিতে থাকা ক্যালসিয়াম দাত ও হাঁড় মজবুত করে।

শীত অনুভূতি কমায়: যারা অতিরিক্ত শীত কাতুরে। তারা শীত তাড়াতে নিয়মিত পেঁয়াজের কলি বা পেঁয়াজ পাতা রান্না করে অথবা সালাদ হিসেবে খেতে পারেন। এটি শীত নিবারনে প্রাকৃতিক উপাদান।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ লাইন ও উইকিপিডিয়া

 

এবি/এসএন

০৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৪১পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।