• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

বেসন গুঁড়া: ত্বক ও শরীরের সুস্থতায় অনন্য উপাদান

বেসন গুঁড়া: ত্বক ও শরীরের সুস্থতায় অনন্য উপাদান

প্রতিকী ছবি

ফিচার ডেস্ক

নিত্যদিনের বিশেষ খাবারের অন্যতম অনুসঙ্গ বেসন। ছোলার ডালসহ অন্যান্য ডাল দিয়ে বেসন তৈরি হয়। বেসন মূলত মিহি গুঁড়া জাতীয়। এই উপাদানটিতে রয়েছে অলেয়িক অ্যাসিড, লাইনোলিক অ্যাসিড, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও খনিজ উপাদান। বেসনে রয়েছে পর্যাপ্ত আঁশ। পুষ্টিগুণের অন্যতম আদর্শ উৎস বেসনের উপকারিতাও অনেক।

বেসনের পুষ্টি উপাদান

পুষ্টিবিদরা বলছেন, বেসনে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফরফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, থায়ামিন, ফলেট, ভিটামিন-এ, ই ও কে। মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বেসন অত্যন্ত কার্যকরী। মুখরোচক খাবার তৈরিতে বেসনে বাহারি ব্যবহার সুপ্রাচীন। তবে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য বাহ্যিক ভাবেও ব্যবহার করা যায়।

উপকারিতা

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে: বেসনে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম। যে কারণে এই উপাদানটি ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকরী।

মুখের ত্বক উন্নত করে: বেসনের সঙ্গে সমপরিমাণ গাঁদা ফুল মিশিয়ে ভালো করে বেটে নিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। প্রাকৃতিক এই ফেসপ্যাকটি ত্বকের শুষ্কতা কমায় ও উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। ত্বকের ব্রণ দূর করতেও দারুণ কার্যকরী বেসন।

ওজন কমায়: এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার ও প্রোটিন, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখে। উচ্চমাত্রার প্রোটিনযুক্ত খাদ্য উপাদান ক্ষুধাভাব দূরে রাখে। ফলে খাদ্যগ্রহণ কম হয়। এতে করে বাড়তি খাবার প্রয়োজন না হওয়ায় দ্রুত ওজন কমে।

হাড় শক্তিশালী করে: ডাল থেকে বেসন তৈরি করা হয়। কাজেই, বেসনে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। এই দুটি উপাদান মানবদেহের হাড় শক্তিশালী করে ও হাড় গঠন করে।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখে: বেসনে শুধু ফাইবার বেশি থাকে না, বরং এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এসব উপাদান স্বাস্থ্যের সার্বিক সুস্থতার পাশপাশি হৃদরোগ দূরে রাখে। গবেষকরা বলছেন, বেসনে কোলেস্টেরলের মাত্রা ৪.৬ শতাংশ, যা সার্বিক কোলেস্টেরলের মাত্রার চেয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশ কম। কাজেই, বেসন হৃদরোগ ও কার্ডিয়াক ডিজিজের ঝুঁকি কমায়।

হজমশক্তি বাড়ায়: নিম্ন গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ হওয়ায় বেসন হজম ক্রিয়া উন্নত করে। এটি সহজেই হজম হয়ে যায়। এমনকি বেসন রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে ইনস্যুলিন সেনসিটিভিটি বাড়িয়ে দেয়। বেসনে থাকা ফাইবার কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা কমিয়ে আনে এবং মলত্যাগের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

অবসাদ দূর করে: পুষ্টিহীনতার কারণে শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আপনি যদি বেসন দিয়ে তৈরি খাবার খান, তাহলে দ্রুত অবসাদ ও ক্লান্তি ভাব দূর হবে। কারণ, বেসনে রয়েছে থায়ামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, যা শরীরের ক্লান্তিভাব কমায়।

 

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন।

০১ মে ২০২৩, ১২:৫০পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।