‘শিল্পকলার হিমায়িত প্রমাণ হলো পেইন্টিং’
প্রতিকী ছবি
শিল্প ও সুন্দর সৃষ্টিকর্মের ওপর এগিয়ে চলেছে পৃথিবী। যুগে যুগে মানুষের মনোজগতের নান্দনিকতা ফুটে উঠেছে নানা ভাবে। সংগীত, অভিনয়, উদ্ভাবন কিংবা ক্রীড়া, পৃথিবীতে পদচিহ্ন এঁকে যাওয়ার কত চেষ্টা মানুষের। এত চেষ্টার একটাই উদ্দেশ্য, কারণ মানুষ তার কর্মের মাঝেই চিরকাল বেঁচে থাকতে চায়। আর এ কারণেই মানুষ সৃজনশীল ও বিশেষ গুণসমৃদ্ধ কাজ করে থাকে। তবে সৃষ্টিশীল অন্য সব কাজের মধ্যে চিত্রকলা যেন সব থেকে আলাদা। চিত্রকলা এমনটি একটি শিল্প-ভাবনা, যা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন টেকসই হয়।
বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ভিনসেন্ট ভ্যান গগ, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কিংবা বাংলাদেশের জয়নুল আবেদিন, চিত্রকর্মের মাঝেই এই বিখ্যাত মানুষগুলো এখনো প্রাণোবন্ত।
‘মোনালিসা’ চিত্রকর্মের মাঝে এখনো যেন জীবন্ত বিশ্বজয়ী চিত্রকর লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। ফ্রান্সের ল্যু’ভর মিউজিয়ামে রক্ষিত মোনালিসার মুখের মৃদু হাসি যেন এখনো টাটকা। আবার শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘ম্যাডোনা-৪৩’, ‘দুর্ভিক্ষ’ কিংবা ‘মনপুরা-৭০’। এসব চিত্রকর্মের মাঝেই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী আজও এ জাতির হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
সময়ে সময়ে নানা শিল্পীর শিল্প আলোচিত হয়। আবার এক সময়ের বহুল আলোচিত শিল্প ধারাও বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু চিত্রশিল্প বা রঙ পেন্সিলে আঁকা শিল্প যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। মানুষের হৃদয়ে সবথেকে বেশি প্রভাব বিস্তার করে চিত্রকর্ম।
আর এসব বিবেচনা করেই বিখ্যাত মার্কিন চিত্রশিল্পী চাক ক্লোজ বলেছেন-‘শিল্পকলার হিমায়িত প্রমাণ হলো পেইন্টিং’। তিনি মূলত বুঝাতে চেয়েছেন, পৃথিবীতে বহুকাল আগে থেকেই শিল্পকলার অস্তিত্ব ছিল। আর সেই অস্তিত্বের প্রমাণ চিত্রকর্ম। চিত্রকর্ম এমন এক শিল্প, যা বহুকাল ধরে সুপ্ত অবস্থায়ও টিকে থাকে।