সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে সংকট, হাইকোর্টে রুল ও রিট
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, হরতাল ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটছে।
ফরিদপুর ও বাগেরহাটের আসন পুনঃনির্ধারণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে হাইকোর্টে রিট ও রুল জারি হয়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট থেকে একটি আসন কমিয়ে গাজীপুরে যুক্ত করা এবং ফরিদপুরের একটি আসনের কিছু ইউনিয়ন অন্য আসনে যুক্ত করায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ৩৯টিতে সীমানা পরিবর্তন আনে। তবে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবনসহ কয়েকটি জেলায় আসন অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনি এলাকা সীমানা আইন, ২০২১ অনুযায়ী এবার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি মূল বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হয়—
১. জনসংখ্যা
২. প্রশাসনিক কাঠামো
৩. ভৌগোলিক অখণ্ডতা
এছাড়া সর্বশেষ ২০২২ সালের আদমশুমারি রিপোর্টকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষক ড. আব্দুল আলীম জানান, ভোটার সংখ্যা ও জনসংখ্যার ভারসাম্য, ভৌগোলিক সমস্যা (যেমন নদী বা পাহাড় পেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া) এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাসরত এলাকাকে সংরক্ষিত রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস সবসময় কার্যকর হয় না। ভৌগোলিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক সুবিধাকেও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সংকট বাড়ছে
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন সীমানা পুনঃনির্ধারণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে এবার ইসি দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে।