• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অঢেল সম্পত্তি রেখেও একমাত্র ছেলের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে কী?

অঢেল সম্পত্তি রেখেও একমাত্র ছেলের ‘আত্মহত্যা’, নেপথ্যে কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) রফিকুল ইসলামের রেখে যাওয়া অঢেল সম্পত্তি আর একমাত্র ছেলের রহস্যময় আত্মহত্যা— এই দুইয়ে মিলে তৈরি হয়েছে এক বড় প্রশ্ন। এত বিপুল সম্পত্তি থাকার পরও কেন আত্মহত্যা করলেন ৩২ বছর বয়সী তরুণ আল মুক্কাবির ইসলাম অর্ণব?

গত ২ মে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে অর্ণবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের পর তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। অর্ণবের মামার দাবি, এই মৃত্যুর রহস্য লুকিয়ে আছে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভেতরেই। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে অর্ণবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, অথবা তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।

বাবার বিপুল সম্পদ

অর্ণবের বাবা রফিকুল ইসলাম পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ রেখে গেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

  • ধানমন্ডি ৮/এ এবং ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে দুটি ফ্ল্যাট।

  • সেগুনবাগিচার 'ইস্টার্ন ড্রিম' ভবনে বহুমূল্য অ্যাপার্টমেণ্ট ও উত্তরায় একটি ফ্ল্যাট।

  • মালিবাগের মীরবাগে ৫ তলা বাড়ি।

  • ডেমরায় ‘রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’।

  • গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের আকবপুরে ১০ একর জমির ওপর ‘উমেদ আলী ভুঁঞা উচ্চবিদ্যালয়’ এবং নীলগঞ্জে ‘রফিকুল ইসলাম কলেজ’।

  • এছাড়া কিশোরগঞ্জের খালিয়াজুড়িতে ১০০ একর কৃষিজমি ও খামারবাড়ি, তাড়াইল ও কিশোরগঞ্জ শহরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি।

ফাঁদ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্ণবের এক মামা জানান, এই মৃত্যুরহস্য উন্মোচন করতে হলে সম্পদের সূত্র ধরে গভীরে গিয়ে তদন্ত করা দরকার। সম্পত্তির লোভে অর্ণবকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পিত হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হতে পারে। আবার নানা কৌশলে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তাকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেওয়াও অসম্ভব নয়। সত্য জানতে অর্ণবের মোবাইল ফোন, ব্যাংক লেনদেন ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা জরুরি।

সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের বক্তব্য

পুলিশ অবশ্য ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছে। ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর কিছু সময় আগে অর্ণব একাই ছাদের একটি উঁচু অংশে লোহার সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন। সেখানে অন্য কারও উপস্থিতি দেখা যায়নি।

তবে অর্ণবের শোয়ার ঘর থেকে মাদকসেবনের কিছু আলামত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপর থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে অর্ণবের পকেটে থাকা দুটি মোবাইল ফোন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, কারিগরি সহায়তায় সেগুলোর তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তদন্ত কোন দিকে?

রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিঞ্চার জিসানুল হক জানান, এটি আত্মহত্যা হলেও এর পেছনে কেউ প্ররোচনা দিয়েছে কি না— বিশেষ করে সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই কললিস্ট ও মোবাইল ডেটা পরীক্ষা করা হবে।

এদিকে পরিবারের অনেকেই এটি আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। তাদের প্রশ্ন, সুস্থ-স্বাভাবিক একজন যুবক কেন হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নেবে? ঘটনার সময় বাসায় থাকা গাড়িচালক ও দুই গৃহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ধানমন্ডি থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজিব হাসান জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। শোকস্তব্ধ মা ও দুই বোনের সাথে কথা বলে ঘটনার আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

২৭ মে ২০২৬, ০৪:১৭এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।