• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্বের প্রথম ‘ক্যামেরা ও তার কারিশমা’

বিশ্বের প্রথম ‘ক্যামেরা ও তার কারিশমা’

ফিচার ডেস্ক

ক্যামেরা বা আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্রের ইংরেজি নাম Camera বা Photographic camera। দৃশ্যমান স্থির বা গতিশীল ঘটনা ধরে রাখার জন্য এটি ব্যবহার হয়। ক্যামেরা চিত্র রেকর্ড করতে ব্যবহৃত একটি অপটিক্যাল যন্ত্র। প্রাথমিক পর্যায়ে, ক্যামেরায় একটি ছোট গর্ত (অ্যাপারচার) দিয়ে সিল করা বাক্স (ক্যামেরার শরীর বা বডি) দেয়া হয়।

‘ক্যামেরা’ শব্দটি লাতিন পদগুচ্ছ ‘কামেরা ওবস্কিউরা’ থেকে এসেছে। এর অর্থ ‘অন্ধকার প্রকোষ্ঠ’। অতীতে আলোকচিত্রগ্রাহী ফিল্ম অর্থাৎ আলোকসংবেদী পর্দায় চিত্রের নেগেটিভ বা ঋণাত্মক ছাপ সংগৃহীত হত। এখন আলোক ডায়োড (ফটোডায়োড) ও সিসিডি-যুক্ত ডিজিটাল ক্যামেরার আবির্ভাবের কারণে আলোকচিত্র গ্রহণ ও ধারণের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।

ক্যামেরার ইতিহাস বেশ বর্ণাঢ্য। শুরুর দিকে মানুষের অবয়ব, বিভিন্ন শখের বস্তু, ইমারত ও নৈসর্গিক দৃশ্যকে ধরে রাখার জন্য নানা উপায়ে চেষ্টা চালানো হতো। এক পর্যায়ে শুরু হয় কলম ও রঙ-তুলির ব্যবহার।

তবে মনে করা হয় খ্রিস্টের জন্মের প্রায় চারশো বছর আগে চীনা দার্শনিক মজি ‘ক্যামেরা’ তৈরি করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন দার্শনিক এই ক্যামেরার রূপরেখা ঠিকঠাক করেন। যদিও এই পিনহোল ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি কোনো কিছুর ছবি তোলা যেতো না। অন্ধকার দেয়ালে উল্টো প্রতিবিম্ব উঠতো। এবং সেটি দেখে ছবি একে নিতে হতো। কিন্তু পুরো ছবিটিই থাকতো উল্টো।

পরে একসময় আবিষ্কৃত হয় ছবি তোলার জন্য বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল। এরই ধারাবাহিকতায় চলে আসে ক্যামেরা তত্ত্বটি। ১০২১ সালে ইরাকের এক বিজ্ঞানী ইবন-আল-হাইতাম আলোক বিজ্ঞানের ওপর সাত খণ্ডের একটি বই লিখেছিলেন আরবি ভাষায়, এর নাম ছিল কিতাব আল মানাজির।

সেখান থেকে ক্যামেরার উদ্ভাবনের প্রথম সূত্রপাত। ১৫০০ শতাব্দীতে এসে চিত্রকরের একটি দল তাদের আঁকা ছবিগুলোকে একাধিক কপি করার জন্য ক্যামেরা তৈরির প্রচেষ্টা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৫৫০ সালে জিরোলামো কারদানো নামের জার্মানির একজন বিজ্ঞানী ক্যামেরাতে প্রথম লেন্স সংযোজন করেন।

তখন ক্যামেরায় এই লেন্স ব্যবহার করে শুধু ছবি আঁকা হতো। তখনও আবিষ্কৃত ওই ক্যামেরা দিয়ে কোনো প্রকার ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। কারণ ওই ক্যামেরাকে সফল রূপ দিতে সময় লেগেছিল আরও অনেক বছর।

তবে ক্যামেরার ইতিহাসে একটি মাইলফলক ছিল ১৮২৬ সাল। ওই সালেই প্রথমবারের মতো আলোকচিত্র ধারণের কাজটি করেন জোসেপ নাইসপোর নিপস। তিনি পাতলা কাঠের বাক্সের মধ্যে বিটুমিন প্লেটে আলোর ব্যবহার করে ক্যামেরার কাজটি করেন। সে হিসেবে তাকেই প্রথম ক্যামেরা আবিষ্কারক বলা যায়।

তার ক্যামেরা সংক্রান্ত ধারণার ওপর নির্ভর করেই ফ্রাঞ্চমেন চার্লেস এবং ভিনসেন্ট ক্যাভেলিয়ার প্রথম সফল ক্যামেরা আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৮৪০ সালে উইলিয়াম টালবোট স্থায়ী চিত্র ধারণের জন্য নেগেটিভ ইমেজ থেকে ছবিকে পজিটিভ ইমেজে পরিবর্তন করেন। এরপরই বিশ্বব্যাপী ক্যামেরার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দ্রুতবেগে সম্প্রসারিত হতে থাকে। ১৮৮৫ সালে জর্জ ইস্টম্যান তার প্রথম ক্যামেরা ‘কোডাক’-এর জন্য পেপার ফিল্ম উৎপাদন করেন।

সংক্ষেপে ক্যামেরার বিবর্তন:

♦ ১৮৪০ সালে হেনরি ফক্স তালবোট হোলোটাইপ ক্যামেরা সকলের সামনে আনেন। প্রথম ক্যামেরার জনক হিসেবে তখন লুইস ডি গুয়েরোর নাম ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারে খোদাই করে বসানো হয়।
♦ ১৮৫০ সালে ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল স্টুডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠে।
♦ ১৮৬১ সালে প্রথম রঙিন ছবি তোলার পদ্ধতি চালু হয়। কিন্তু সেটি ছিল অনুজ্জ্বল।
♦ ১৮৭১ সালে রিচার্ড লীচ ম্যাডক্স আবিষ্কার করেন জিলেটিন ড্রাই প্লেট ক্যামেরা।
♦ ১৮৭৮ সালে এডওয়ার্ড ময়ব্রিজ ক্যামেরার সাহায্যে নিচের ঘোড়াদৌড়ের ছবি তোলেন।
♦ ১৮৮৫ সালে জর্জ ইস্টম্যান কোডাক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা প্রথম ফিল্মের আবিষ্কার করেন।
♦ ১৮৮৮ সালে কোডাক কোম্পানি তাদের ক্যামেরা বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে আসে।
♦১৯২৫ সালে অস্কার বারনেক আবিষ্কার করেন লেইকা-১ নামের ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরা। এই ক্যামেরাটি ফটোগ্রাফির জগতে নতুন বিপ্লব সূচনা করে।

 

তথ্যসূত্র- হিস্টেরি কো অপারেটিভ, উইকিপিডিয়া ও এনএফআই ডট উইনিভার্সিটি।

৩০ মে ২০২২, ০৫:৪৭এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।