• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

চিকিৎসায় বিপ্লব: এক্স-রে উদ্ভাবনের ইতিহাস

চিকিৎসায় বিপ্লব: এক্স-রে উদ্ভাবনের ইতিহাস

ছবি- সংগৃহিত

ফিচার ডেস্ক

রঞ্জনরশ্মি বা এক্স-রশ্মি (X-ray) বলতে আলোর চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বুঝায়। এই রশ্মি মূলত ০.১ থেকে ১০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিসরে এবং ৩x১০১৬ থেকে ৩x১০২০ হার্জের কম্পাংক পরিসরে অবস্থিত ও উচ্চ ভেদনক্ষমতাবিশিষ্ট তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকে বোঝায়।

উদ্ভাবন

১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন (Rontgen) একটি নলে নিম্নচাপে অবস্থিত গ্যাসের মধ্যে উচ্চবিভবে তড়িৎক্ষরণের সময় ক্যাথোড রশ্মির (ইলেকট্রন রশ্মির) ক্রিয়া সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনা করেন।

ওই সময় আকস্মিকভাবে এই রশ্মিগুলি আবিষ্কার করেন রন্টগেন। অজানা প্রকৃতির কারণে ওই রশ্মির নাম দেয়া হয় ‘এক্স-রশ্মি’। পরবর্তীতে উদ্ভাবকের নামানুসারে এই রশ্মির নাম ‘রঞ্জনরশ্মি’ রাখা হয়।

তাঁর এই আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক মহলে ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সাড়া ফেলে। এর এক বছর পরে ১৮৯৬ সালে তেজস্ক্রিয়তা ও ১৮৯৭ সালে ইলেকট্রনের আবিষ্কারের মাধ্যমে পরমাণুর অভ্যন্তরের জগতের গবেষণা সূচিত হয় এবং আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জন্ম হয়।

এক্স-রে এর প্রকৃতি:

♥ রঞ্জনরশ্মি সরলরেখায় গমন করে।
♥ এটি অত্যধিক ভেদনক্ষমতাসম্পন্ন।
♥ রঞ্জনরশ্মি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ, তড়িৎক্ষেত্র বা চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা এটি বিচ্যুত হয় না।
♥ সাধারণ আলোর ন্যায় রঞ্জনরশ্মির প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ও সমাবর্তন হয়ে থাকে।
♥ আলোকচিত্রগ্রাহী পাতের (ফটোগ্রাফিক প্লেট) ওপর এর প্রতিক্রিয়া আছে।
♥ রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব হ্রস্ব, কম্পাঙ্ক খুব উচ্চ।
♥ রঞ্জনরশ্মির আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া আছে।
♥ জিঙ্ক সালফাইড, বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইড, প্রভৃতি পদার্থে এ রশ্মি প্রতিপ্রভার সৃষ্টি করে।
♥ রঞ্জনরশ্মি গ্যাসীয় পদার্থে আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ।
♥ রঞ্জনরশ্মি অদৃশ্য। সাধারণ আলোকরশ্মি অক্ষিপটে পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জন্মায়, কিন্তু রঞ্জনরশ্মির ক্ষেত্রে এমন হয় না।
♥ এই রশ্মির তীব্রতা ব্যস্তানুপাতিক সূত্র মেনে চলে।
♥ এটি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।
♥ রঞ্জনরশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে এবং রঞ্জনরশ্মি আধান নিরপেক্ষ।

৩১ মে ২০২২, ০৬:৪৭এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।