মাইক্রোওভেন: শত্রুকে ঘাঁয়েল করতে গিয়ে বিস্ময়কর আবিষ্কার
ছবি- সংগৃহিত
বর্তমান আধুনিক যুগে ঘর-গৃহস্থালির অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি পণ্য। ইলেকট্রিক চুলা, ফ্রিজ, এসি, ব্লেন্ডার, গ্লেন্ডারসহ প্রয়োজনের তালিকায় রয়েছে অসংখ্য ইলেকট্রিক যন্ত্র। এসব যন্ত্র যেন আমাদের পরিবারগুলোতে অবশ্য দরকারি পণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি পণ্যগুলোর মধ্যে মাইক্রোওভেন অন্যতম।
কিন্তু আপনি কি জানেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষ ও শত্রুপক্ষের পারস্পারিক প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়েই আবিষ্কার করা হয় ‘মাইক্রোওভেন’। ১৯৪৫ সালের পর থেকেই এই যন্ত্রটি জনপ্রিয়তায় শীর্ষে। তবে এর আবিষ্কারের নেপথ্য ঘটনা বেশ মজার।
কথিত আছে, ড. পার্সি স্পেন্সার ছোটবেলা থেকেই খুব কৌতুহলী ছিলেন। মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি আমেরিকান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। সেসময় জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাডার ব্যবহারে ড. পার্সি বেশ দক্ষ হয়ে উঠেন।
১৯৩৯ সাল নাগাদ তিনি হয়ে গেলেন রাডার সংক্রান্ত ব্যাপারে বিশ্বের অন্যতম এক্সপার্ট। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার দ্বারপ্রান্তে। ড. পার্সি সেসময় ‘রেইথিওন’ নামের এক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ভাগ্যক্রমে ওই কোম্পানিটি ছিলো আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের অন্যতম পার্টনার। তারা রাডার ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ণয় করার জন্য গবেষণা শুরু করে। বিশ্ববিখ্যাত ম্যানহাটন প্রজেক্টের পর এই রাডার প্রজেক্ট ছিলো আমেরিকার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মিলিটারী গবেষনা।
ডা. স্পেন্সারের সেই কোম্পানিতে কাজ করতেন ক্ষুদ্রতরঙ্গ উৎপাদনকারী রাডার নিয়ে যা ব্যবহার করে দূরের কোন বস্তুর অবস্থান বোঝা যাবে। ১৯৪৫ সালের দিকে তিনি নিজের কোম্পানীর ল্যাবে কাজ করছিলেন। হঠাৎ, অসাবধানতা বশত: বেশ কয়েকবার তিনি হেঁটে চলে যান কতগুলো রাডারের তরঙ্গের সামনে দিয়ে। প্রচন্ড ব্যস্ততাপূর্ণ দিনে ড. পার্সি এই একই ভুল করতে থাকেন বার বার। বেলা বাড়তে থাকার সাথে সাথে তার কিছুটা খিদে জাগে। পকেটে রাখা চকলেট বারের দিকে হাত বাড়াতেই তার একেবারে ‘আক্কেল গুড়ুম’ অবস্থা!
তিনি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করলেন, চকলেট বারটি একে বারে গলে তরল হয়ে আছে! সাধারণ মানুষ হলে হয়তো ব্যাপারটিকে নিয়ে কেউ এতো মাথা ঘামাতো না। কিন্তু, ড. স্পেন্সার ছিলেন অসাধারণ এক পর্যবেক্ষণ শক্তির অধিকারী। তিনি তার চকলেট গলে যাওয়ার রহস্য উৎঘাটনে লেগে গেলেন! ধারণা করলেন, হয়তো রেডিও তরঙ্গের এতে কোন ভূমিকা আছে। সেটা প্রমাণ করতে তিনি এক বস্তা ভুট্টার মধ্য দিয়ে চালিয়ে দিলেন সেই রাডারের তরঙ্গ। ফট ফট শব্দ করে তৈরি হতে লাগলো পপকর্ণ!
এরপর যুদ্ধ শেষে ১৯৪৬ সালে রেইথিওন কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন তিনি। ওই কোম্পানিতে কাজ শুরুর পর তিনি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের পেটেন্ট তৈরি করেন। এর মধ্যদিয়ে শত্রুকে ঘাঁয়েল করার অস্ত্র হয়ে ওঠে সুস্বাদু খাবার রান্নার মেশিন।