• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

ভেঙে যাওয়া খেলনা থেকে বিশ্বের প্রথম বিমান আবিষ্কার!

ভেঙে যাওয়া খেলনা থেকে বিশ্বের প্রথম বিমান আবিষ্কার!

ছবি- সংগৃহিত

ফিচার ডেস্ক

বাবার দেয়া খেলনা হেলিকপ্টার দেখে দুই ভাই বাস্তব হেলিকপ্টার তৈরি করেন। গল্পটি উইলবার রাইট এবং অরভিল রাইটের। তাদের বাবা গির্জার যাজক মিল্টন রাইট। ফ্রান্সের নাগরিক এই রাইট ভ্রাতৃদ্বয় প্রথম বিমানের বা হেলিকপ্টারের নকশা তৈরি করেছিলেন।

নকশা অনুযায়ী উইলবার এবং অরভিল বাঁশ, কাঠ, প্লাস্টিক ও কাগজের ছাউনি দিয়ে হেলিকপ্টার তৈরি করে। পরে নকশা পাল্টে তারা হেলিকপ্টারকে বিমানে রূপ দেন।

ইতিহাস বলছে, ১৮৬৭ সালের ১৬ এপ্রিল আমেরিকার ইন্ডিয়ানা রাজ্যের মিলভিলে এবং ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ আগস্ট ওহাইও রাজ্যের ডেটনে জন্মগ্রহণ করেন অরভিল রাইট।

১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে রাইট ভাতৃদ্বয় নিজেদের ছাপাখানার ব্যবসা বাদ দিয়ে বাই সাইেকেল তৈরির কারখানা করেন। এতে তাদের অর্থনৈতিক সফলতা আসে। এরপর ছোটবেলার হেলিকপ্টার বানানোর বাস্তব প্রয়োগ ঘটান তারা। প্রথমে রাইট ভ্রাতৃদ্বয় গ্লাইডার নিয়ে পরীক্ষা চালান।

এ জন্য দুই ভাই সংগ্রহ করেন স্যার জর্জ কেইলি, চানিউট, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এবং ল্যাংলির এরোনেটিক সংক্রান্ত গবেষণার তথ্যাদি। ১৮৯৬ এবং ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত বিমান তৈরির ওপর যত প্রকাশনা রয়েছে সেগুলো তারা সংগ্রহ করে মনোযোগ দিয়ে পড়েন। কেননা ওই সময় তাদের মতো অনেকেই উড়োজাহাজ তৈরির চেষ্টা করছিল। কিন্তু কেউই সেভাবে সফল হতে পারেননি। তাদের দেখানো পথ ধরেই এবার রাইট ভাতৃদ্বয় শুরু করেন ক্লান্তিহীন গবেষণা।

১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে উইলবার পাঁচ ফুট উচ্চতার একটি বাক্স ঘুড়িতে পাখা বেঁধে ওড়ার চেষ্টা করেন। এটিকে ওড়ানোর জন্য আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার কিটি হকে নিয়ে আসা হয়। উড্ডয়নটি মাত্র ১২ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। তাতে অবশ্য তারা দমে যাননি। এরপর ১৯০১ এবং ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে পরপর দুটি পরীক্ষা করেন। তৃতীয়বার তারা নিজেদের উদ্ভাবিত যন্ত্র ব্যবহার করে কিছুটা সাফল্য পান। প্রায় এক হাজার বার এটি ওড়ানো হয়। এর নাম দেন ‘Flyer-১’।

১৯০৩-এর ২৩ মার্চ রাইট ভ্রাতৃদ্বয় উড্ডয়নকৃত গ্লাইডারের প্যাটেন্ট লাভের জন্য আবেদন করেন। এরপর তারা সাধনা অব্যাহত রেখে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে তৈরি করেন Flyer-১১১। এটিতে তারা ১০৫ বার উড্ডয়ন করেন। এ ঘটনা পৃথিবীর সকল গণমাধ্যম বিশেষ করে আমেরিকার বিখ্যাত ‘হেরল্ড ট্রিবিউন’ পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দুই ভাই উড়োজাহাজকে আরও নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য ব্যাপক গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। তারা গবেষণা কাজে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। পরে ফ্রান্সের একটি কোম্পানি এবং আমেরিকার সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা চুক্তি হয়। চুক্তির শর্তানুসারে দুই ভাইকে দুই দেশে আলাদাভাবে ফ্লাইং করতে হবে। চুক্তি মোতাবেক বড় ভাই উইলবার ফ্রান্সে এবং অরভিল ওয়াশিংটন ডিসিতে কাজ করেন।

রাইট ভ্রাতৃদ্বয় ছিলেন চিরকুমার। ব্যস্ততার কারণে তাদের দুজনের বিয়ে করা হয়নি। বিয়ে প্রসঙ্গে উইলবারের সরল এবং সরস উক্তি- ‘আমাদের কারোরই সময় ছিল না একইসঙ্গে একজন স্ত্রী এবং একটি এরোপ্লেন রাখার।’

০২ জুন ২০২২, ০৭:২৯এএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।