বলপয়েন্ট কলমের ইতিহাস
প্রতিকী ছবি
শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে ‘কলম’। কলম মূলত আরবি শব্দ। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘পেন’। প্রাচীন যুগে গাছের সুঁচালো ডাল, পাখির পালক এবং তীক্ষ্ম ফলা লেখার কাজে কলম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখন যুগ পাল্টেছে। নানা রকম আধুনিক কলমের ব্যবহার এখন বিশ্বজোড়া।
তবে বিশ্বে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কলমের নাম ‘বলপয়েন্ট পেন’। ইতিহাস বলছে, উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বলপয়েন্ট কলমের আবিষ্কার। ১৯৮৮ সালে আমেরিকান উদ্ভাবক জন লাউড এই কলম তৈরি করেন।
এই কলমের নিবের মুখে লাগানো হয় এক মসৃণ ঘূর্ণিগোলক, যা লেখার সময় অনবরত ঘুরতে থাকে। প্রথম দিকে আবিষ্কৃত এই কলমের একটি ছোট খোপে তরল কালি রাখা হত। সেখান থেকে কালি কলমের নিবের ঘুর্ণিগোলক বেয়ে নেমে আসতো।
ইতিহাসবিদদের মতে, মার্কিন উদ্ভাবক জন লাউডের হাত ধরেই প্রথমবারের মতো বলপয়েন্ট কলমের ধারণা পায় মানুষ। পরে এটির বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়।
জন লাউডের আবিষ্কারের পর পরবর্তী ৩০ বছরে প্রায় ৩৫০টি কলমের প্যাটেন্ট আবেদন গৃহীত হলেও সেগুলো খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। কারণ, প্রতিবারই কলমের কালির চেম্বার নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। কালি বেশি তরল হলে বলের ফাঁক দিয়ে তা চুইয়ে বাইরে বেরিয়ে আসত, আবার বেশি ঘন হলে লেখার সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণে কালি নেমে আসত না।
এরকম সমস্যার সমাধানে হাঙ্গেরির দুই উদ্ভাবক সহোদর ভাই বলপয়েন্ট কলমের আরও আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। কথিত আছে, লেডিসলাস বিরো নামের জনৈক হাঙ্গেরীয়ান পত্রিকার সম্পাদক তার ভাই জর্জের এর সাহায্যে নতুন করে বলপয়েন্ট কলম তৈরি করেন। জর্জ ছিল একজন রসায়নবিদ।
তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মানুষ। এ কারণেই তাদের উদ্ভাবিত কলমটি বাজারে আসার আগেই তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। দেশ ছাড়ার পর তারা ল্যাটিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় চলে যান। সেখানে তাদের তৈরি প্যাটেন্ট নেয়া হয় ফের।
১৯৪৩ সালে তারা আর্জেন্টিনায় একটি বলপয়েন্ট পেনের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন ফ্রান্সের এক ব্যবসায়ী। তবে সত্যিকারের কর্মক্ষম বলপয়েন্ট আবিষ্কারের কৃতিত্ব আমেরিকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিকাগোর একজন নাবিক মিল্টন রেনল্ডস আর্জেন্টিনা থেকে কয়েক ধরনের বিরোর বলপয়েন্ট পেন আমেরিকায় নিয়ে আসেন এবং তার হাত ধরেই বিরো ভাইদের বানানো বলপয়েন্ট কলমের অবশিষ্ট ত্রুটিগুলো দূর হয়।